Madhyamik Life science All Chapters Mock Test

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সম্পূর্ণ গাইড | Class 10 Life Science WBBSE

শ্রেণী: দশম শ্রেণী | বিষয়: জীবন বিজ্ঞান | পরীক্ষা: মাধ্যমিক (WBBSE)

দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান বিষয়টি জীবদেহের নিয়ন্ত্রণ, জীবনের ধারাবাহিকতা, বংশগতি, বিবর্তন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সমন্বয়ে গঠিত। মাধ্যমিক পরীক্ষায় জীবন বিজ্ঞানে ভালো নম্বর পেতে হলে প্রতিটি অধ্যায়ের ধারণা, প্রক্রিয়া ও চিত্র স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি। এই ব্লগ পোস্টে WBBSE Class 10 Life Science-এর সমস্ত অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি একসাথে পাওয়া যাবে।


প্রথম অধ্যায় — জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

Control and Coordination in Living World | Madhyamik Life Science Chapter 1 | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায়

জীবদেহ একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। পরিবেশের পরিবর্তনে সাড়া দেওয়া এবং দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সমস্ত জীবের একটি সমন্বয় ব্যবস্থা প্রয়োজন। উদ্ভিদ ও প্রাণী — উভয়েই ভিন্নভাবে এই কাজ সম্পন্ন করে।


উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা এবং সাড়াপ্রদান

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: উদ্ভিদের স্নায়ুতন্ত্র না থাকলেও তারা পরিবেশের উদ্দীপনায় সাড়া দিতে পারে। উদ্ভিদের এই সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: উদ্ভিদের চলন দুই ধরনের — বৃদ্ধিজনিত চলন (Tropic Movement) এবং বৃদ্ধিনিরপেক্ষ চলন (Nastic Movement)। আলোর দিকে উদ্ভিদের বেঁকে যাওয়াকে ফটোট্রপিজম বলে — কাণ্ড আলোর দিকে বাঁকে (ধনাত্মক) এবং মূল আলো থেকে দূরে সরে যায় (ঋণাত্মক)। মাটির দিকে মূলের বৃদ্ধিকে জিওট্রপিজম বলে। জলের দিকে মূলের বৃদ্ধিকে হাইড্রোট্রপিজম বলে। লজ্জাবতী গাছের পাতা স্পর্শে বন্ধ হওয়া হলো থিগমোন্যাস্টি — এটি বৃদ্ধিনিরপেক্ষ চলনের উদাহরণ।


উদ্ভিদের রাসায়নিক সমন্বয় — হরমোন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ ও চলন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ কাজ করে — এদের উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটোহরমোন বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: অক্সিন হলো প্রধান উদ্ভিদ হরমোন যা কোশের দীর্ঘায়নে সাহায্য করে এবং ফটোট্রপিজম ঘটায়। জিবেরেলিন কাণ্ডের বৃদ্ধি ও বীজের অঙ্কুরোদগমে সহায়তা করে। সাইটোকাইনিন কোশ বিভাজন ত্বরান্বিত করে এবং পাতার বার্ধক্য রোধ করে। অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড (ABA) বৃদ্ধি রোধ করে, পাতা ঝরাতে সাহায্য করে এবং বীজের সুপ্তাবস্থা বজায় রাখে — তাই একে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। ইথিলিন গ্যাসীয় হরমোন যা ফল পাকাতে সাহায্য করে।


প্রাণীদের রাসায়নিক সমন্বয় — হরমোন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: প্রাণীদেহে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন কার্য নিয়ন্ত্রণ করে — এদেরই প্রাণী হরমোন বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয় — এটি বিপাকের হার নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরক্সিনের অভাবে শিশুদের ক্রেটিনিজম ও বড়দের মিক্সিডিমা হয়। অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায় এবং ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস হয়। অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে অ্যাড্রিনালিন নিঃসৃত হয় — জরুরি পরিস্থিতিতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায়, তাই একে জরুরি হরমোন বলে।


প্রাণীদের ভৌত সমন্বয় — স্নায়ুতন্ত্র

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক। এটির তিনটি অংশ — কোশদেহ, ডেনড্রন এবং অ্যাক্সন। মানুষের স্নায়ুতন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত — কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড) এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র। মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো সেরিব্রাম (চিন্তা ও ইচ্ছামূলক কাজ), সেরিবেলাম (ভারসাম্য রক্ষা) এবং মেডুলা অবলঙ্গাটা (হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ)। প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় — এটি দ্রুত ও অনৈচ্ছিক।


প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসাবে গমন

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: গমন তিন ধরনের — অ্যামিবয়েড গতি (অ্যামিবা), সিলিয়ারি গতি (প্যারামেসিয়াম) এবং পেশীয় গতি (উন্নত প্রাণী)। মানুষের গমনে কঙ্কাল ও পেশীর সমন্বয় প্রয়োজন। সন্ধি বা জয়েন্টের প্রকারভেদ — বল ও সকেট সন্ধি (কাঁধ), কব্জা সন্ধি (হাঁটু, কনুই), পিভট সন্ধি (ঘাড়) পরীক্ষায় আসে। পেশীর সংকোচন ও প্রসারণে অ্যাকটিন ও মায়োসিন প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।


দ্বিতীয় অধ্যায় — জীবনের প্রবাহমানতা

Continuity of Life | Madhyamik Life Science Chapter 2 | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায়

জীবন অবিরাম প্রবাহমান। একটি প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে জীবনের ধারা অব্যাহত থাকে কোশ বিভাজন, জনন ও বিকাশের মাধ্যমে। এই অধ্যায়ে সেই প্রক্রিয়াগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।


কোশ বিভাজন ও কোশ চক্র

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: কোশ বিভাজন হলো জীবদেহের বৃদ্ধি ও জননের মূল প্রক্রিয়া। একটি মাতৃকোশ বিভাজিত হয়ে দুই বা চারটি অপত্য কোশ তৈরি করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: কোশ বিভাজন দুই প্রকার — মাইটোসিস ও মিয়োসিস। মাইটোসিসে মাতৃকোশের সমান ক্রোমোসোম সংখ্যা বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোশ তৈরি হয় — এটি দেহ কোশে ঘটে এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। মিয়োসিসে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় এবং চারটি অপত্য কোশ তৈরি হয় — এটি জনন কোশে ঘটে এবং যৌন জননের জন্য অপরিহার্য। মাইটোসিসের পর্যায়গুলি হলো প্রোফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ এবং টেলোফেজ। কোশ চক্রে ইন্টারফেজ (বিশ্রামের দশা) এবং M ফেজ (বিভাজনের দশা) অন্তর্ভুক্ত।


জনন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে জনন বলে। জনন দুই প্রকার — অযৌন জনন ও যৌন জনন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: অযৌন জননে একটি মাত্র জীব থেকে নতুন জীব তৈরি হয় — বিভাজন (অ্যামিবা), মুকুলোদগম (হাইড্রা), রেণু উৎপাদন (মস), খণ্ডীভবন (স্পাইরোগাইরা) এবং অঙ্গজ জনন (আলু, আদা) এর উদাহরণ। যৌন জননে পুরুষ ও স্ত্রী জনন কোশের মিলনে নতুন জীব তৈরি হয় — এতে জীনগত বৈচিত্র্য আসে। পার্থেনোজেনেসিস বা অনিষিক্ত জনন — মৌমাছির ড্রোন এভাবে তৈরি হয়।


সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ফুলের মাধ্যমে সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন ঘটে। পরাগমিলন, নিষেক এবং বীজ গঠনের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ফুলের পুংকেশর থেকে পরাগরেণু এবং গর্ভকেশরের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু তৈরি হয়। পরাগমিলন দুই প্রকার — স্বপরাগমিলন (একই ফুলে বা একই গাছের ফুলে) এবং পরপরাগমিলন (অন্য গাছের ফুলে)। পরাগমিলনের পর পরাগনালিকার মাধ্যমে পুংজনন কোশ ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছায় এবং নিষেক ঘটে। সপুষ্পক উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক (Double Fertilization) ঘটে — একটি নিষেকে জাইগোট এবং অন্যটিতে ভ্রূণপোষক কলা (এন্ডোস্পার্ম) তৈরি হয়।


বৃদ্ধি ও বিকাশ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: জীবের আকার ও ভরের স্থায়ী বৃদ্ধিকে বৃদ্ধি এবং জীবের গুণগত পরিবর্তনকে বিকাশ বলে। উদ্ভিদ ও প্রাণীতে বৃদ্ধির ধরন আলাদা।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: উদ্ভিদের বৃদ্ধি ভাজক কলায় (Meristematic Tissue) সীমাবদ্ধ এবং সারাজীবন চলে — একে অনির্দিষ্ট বৃদ্ধি বলে। প্রাণীর বৃদ্ধি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত চলে — একে নির্দিষ্ট বৃদ্ধি বলে। রূপান্তর (Metamorphosis) হলো বিকাশের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া — পূর্ণ রূপান্তর (ব্যাং, প্রজাপতি) ও অসম্পূর্ণ রূপান্তর (ফড়িং) দুটি ধরন রয়েছে। বার্ধক্য (Aging) ও মৃত্যুও বিকাশের অংশ।


তৃতীয় অধ্যায় — বংশগতি ও কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

Heredity and Genetic Diseases | Madhyamik Life Science Chapter 3 | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান তৃতীয় অধ্যায়

সন্তানেরা কেন মাতাপিতার মতো দেখতে হয়? বংশগতির নিয়মগুলি এই প্রশ্নের উত্তর দেয়। এই অধ্যায়ে মেন্ডেলের সূত্র থেকে শুরু করে আধুনিক জিনতত্ত্ব ও জিনগত রোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


বংশগতি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: পিতামাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে সংক্রান্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বংশগতি বলে। গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটর গাছের উপর পরীক্ষা করে বংশগতির মূল সূত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: মেন্ডেলের প্রথম সূত্র বা পৃথকীভবনের সূত্র অনুযায়ী এক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ করলে F₁ জনুতে শুধু প্রকট বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় এবং F₂ জনুতে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য ৩:১ অনুপাতে আসে। জিন হলো বংশগতির একক যা ক্রোমোসোমে অবস্থিত। জিনোটাইপ হলো জীবের ভেতরের জিনগত গঠন এবং ফিনোটাইপ হলো বাইরে প্রকাশিত বৈশিষ্ট্য। লিঙ্গ নির্ধারণে XX হলো স্ত্রী এবং XY হলো পুরুষ।

মূল থিম: মেন্ডেলের সূত্র, প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য, জিন, অ্যালিল, জিনোটাইপ, ফিনোটাইপ, লিঙ্গ নির্ধারণ।


কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: কিছু রোগ জিনের ত্রুটির কারণে হয় এবং বংশ পরম্পরায় প্রবাহিত হতে পারে। এই রোগগুলিকে জিনগত বা বংশগত রোগ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: হিমোফিলিয়া একটি X-লিঙ্কড রোগ যেখানে রক্ত জমাট বাঁধে না — বেশিরভাগ পুরুষ এতে আক্রান্ত হয় এবং মহিলারা বাহক হয়। থ্যালাসেমিয়া একটি অটোসোমাল রোগ যেখানে হিমোগ্লোবিন ঠিকমতো তৈরি হয় না — রক্তাল্পতা দেখা দেয়। বর্ণান্ধতা বা কালার ব্লাইন্ডনেস আরেকটি X-লিঙ্কড রোগ যেখানে লাল ও সবুজ রং চেনা যায় না। ডাউন সিনড্রোম ঘটে ২১ নং ক্রোমোসোম তিনটি হলে (ট্রাইসোমি ২১)।

মূল থিম: হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, ডাউন সিনড্রোম, X-লিঙ্কড রোগ।


চতুর্থ অধ্যায় — অভিব্যক্তি ও অভিযোজন

Evolution and Adaptation | Madhyamik Life Science Chapter 4 | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায়

পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির জীব রয়েছে — এরা কি সবসময় এরকম ছিল? না। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে জীবের ধীর পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়েছে — এই প্রক্রিয়াই হলো অভিব্যক্তি বা বিবর্তন।

অভিব্যক্তি (Evolution)

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: দীর্ঘ সময় ধরে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবকে অভিব্যক্তি বা জৈব বিবর্তন বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: চার্লস ডারউইন প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব (Natural Selection) প্রদান করেন। তাঁর মতে পরিবেশের সাথে মানানসই জীবরাই টিকে থাকে এবং বংশবিস্তার করে — অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়, একেই যোগ্যতমের টিকে থাকা বলে। ল্যামার্কের মতে অর্জিত বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয় — যদিও এই মত পরে খণ্ডিত হয়। জীবাশ্ম (Fossil) বিবর্তনের প্রধান প্রমাণ। সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গও বিবর্তনের প্রমাণ দেয়। আদি পৃথিবীতে রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমে প্রথম জীবের উৎপত্তি ঘটেছিল।

মূল থিম: ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন, ল্যামার্কের তত্ত্ব, জীবাশ্ম, সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ, রাসায়নিক বিবর্তন।

পরীক্ষার টিপস: ডারউইন ও ল্যামার্কের তত্ত্বের তুলনা এবং সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের পার্থক্য ও উদাহরণ 


অভিযোজন (Adaptation)

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য জীবের দেহে যে বিশেষ গঠনগত, শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায় তাকে অভিযোজন বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: মরু অঞ্চলের উদ্ভিদের (ক্যাকটাস) পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে জলের অপচয় রোধ করতে — কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণ করে এবং মূল অনেক গভীরে যায়। উটের দেহে কুঁজে চর্বি সঞ্চিত থাকে এবং মূত্র অত্যন্ত ঘন হয়। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদে শ্বাসমূল (Pneumatophore) দেখা যায়। মেরু ভালুকের সাদা পশম ও চর্বির স্তর ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। গভীর সমুদ্রের মাছের বায়োলুমিনেসেন্স অন্ধকারে যোগাযোগে সাহায্য করে।

পঞ্চম অধ্যায় — পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ

Environment, Resources and Conservation | Madhyamik Life Science Chapter 5 | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায়

পরিবেশ ও জীবনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। পরিবেশ দূষণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের হ্রাস আজ পৃথিবীর সামনে সবচেয়ে বড় সংকট। এই অধ্যায়ে পরিবেশ রক্ষা ও সম্পদ সংরক্ষণের বিজ্ঞানসম্মত উপায় আলোচিত হয়েছে।


নাইট্রোজেন চক্র

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: নাইট্রোজেন পরিবেশ ও জীবদেহের মধ্যে চক্রাকারে আবর্তিত হয় — একে নাইট্রোজেন চক্র বলে। প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরিতে নাইট্রোজেন অপরিহার্য।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: বায়ুমণ্ডলের ৭৮% নাইট্রোজেন সরাসরি বেশিরভাগ জীব ব্যবহার করতে পারে না। নাইট্রোজেন স্থিতিকরণে রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বায়বীয় নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়ায় পরিণত করে। নাইট্রিফিকেশনে নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাকটর ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়াকে নাইট্রেটে পরিণত করে — যা উদ্ভিদ শোষণ করে। ডিনাইট্রিফিকেশনে ব্যাকটেরিয়া নাইট্রেটকে আবার N₂-তে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে দেয়।


পরিবেশ দূষণ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: মানুষের কার্যকলাপের ফলে পরিবেশের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব বৈশিষ্ট্যের অবাঞ্ছিত পরিবর্তনকে পরিবেশ দূষণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: বায়ু দূষণে SO₂, CO, NOₓ ও সূক্ষ্ম কণিকা (PM) প্রধান দূষক — এটি শ্বাসজনিত রোগ ও অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ। জল দূষণে শিল্পজ বর্জ্য, কৃষি রাসায়নিক ও গৃহস্থালি বর্জ্য প্রধান কারণ — ইউট্রোফিকেশন এর একটি বিশেষ ফলাফল। মাটি দূষণে কীটনাশক, প্লাস্টিক ও ভারী ধাতু দূষক হিসেবে কাজ করে। শব্দদূষণ মানসিক চাপ ও বধিরতার কারণ হতে পারে।


পরিবেশ ও মানব জনসমষ্টি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: দ্রুত বর্ধমান মানব জনসংখ্যা পরিবেশের উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস (বন উচ্ছেদ), কৃষিজমির অবনতি, জলসংকট এবং বায়ু ও জল দূষণ বাড়ছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, জন্মহার ও মৃত্যুহারের মধ্যে সম্পর্ক বোঝা জরুরি। পরিবার পরিকল্পনা ও শিক্ষার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

মূল থিম: জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বনউচ্ছেদ, সম্পদ সংকট, জনসংখ্যা ও পরিবেশের সম্পর্ক।

Keywords: মানব জনসমষ্টি Class 10, জনসংখ্যা পরিবেশ মাধ্যমিক, Human Population WBBSE Bengali Life Science


জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির জীব, তাদের বাসস্থান ও জিনগত বৈচিত্র্যের সমন্বয়কে জীববৈচিত্র্য বলে। এই বৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: জীববৈচিত্র্য তিন স্তরের — জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতি বৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্র বৈচিত্র্য। জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ হলো আবাসস্থল ধ্বংস, অতিরিক্ত শিকার, আক্রমণাত্মক বিদেশি প্রজাতির আগ্রাসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন। সংরক্ষণ দুই প্রকার — স্বস্থানিক সংরক্ষণ (জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ) এবং বহিঃস্থানিক সংরক্ষণ (চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, ব্যাংক)। ভারতের বিশেষ উল্লেখযোগ্য সংরক্ষিত এলাকা হলো সুন্দরবন, কাজিরাঙা ও জিম করবেট।

মূল থিম: জীববৈচিত্র্যের স্তর, বিলুপ্তির কারণ, স্বস্থানিক ও বহিঃস্থানিক সংরক্ষণ, অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান।