Madhyamik History All Chapters Mock Test

 

মাধ্যমিক ইতিহাস সম্পূর্ণ গাইড | Class 10 History WBBSE

শ্রেণী: দশম শ্রেণী | বিষয়: ইতিহাস | পরীক্ষা: মাধ্যমিক (WBBSE)

দশম শ্রেণীর ইতিহাস বিষয়টি আধুনিক ভারতের ইতিহাসের এক বিস্তৃত ও গভীর পর্যালোচনা। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, সমাজ সংস্কার, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে স্বাধীন ভারত গঠন পর্যন্ত — এই বিষয়টি বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলি নিয়ে আলোচনা করে। এই ব্লগ পোস্টে WBBSE Madhyamik History-এর সমস্ত অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি একসাথে পাওয়া যাবে।

প্রথম অধ্যায় — ইতিহাসের ধারণা

Concept of History | Madhyamik History Chapter 1 | মাধ্যমিক ইতিহাস প্রথম অধ্যায়

ইতিহাস কী? কেবল রাজা-মহারাজাদের যুদ্ধের কাহিনিই কি ইতিহাস? না। আধুনিক ইতিহাসচর্চা অনেক বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। এই অধ্যায়ে ইতিহাসের সংজ্ঞা, প্রকৃতি, উপাদান এবং আধুনিক ইতিহাসচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসচর্চায় মূলত রাজনৈতিক ঘটনা, যুদ্ধ ও শাসকদের কথা লেখা হত। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসে সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জীবনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন সামাজিক ইতিহাস, পরিবেশের ইতিহাস, নারী ইতিহাস, খেলার ইতিহাস — এগুলি আধুনিক ইতিহাসচর্চার নতুন ক্ষেত্র। ইতিহাসের উপাদান দুই প্রকার — লিখিত উপাদান (সরকারি দলিল, চিঠিপত্র, সংবাদপত্র, আত্মজীবনী) এবং অলিখিত উপাদান (প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মুদ্রা, শিলালিপি, স্থাপত্য, মৌখিক ইতিহাস)। স্থানীয় ইতিহাস ও আঞ্চলিক ইতিহাসের গুরুত্বও এই অধ্যায়ে আলোচিত।

মূল থিম: আধুনিক ইতিহাসচর্চার ধারা, ইতিহাসের উপাদান, সামাজিক-পরিবেশ-নারী ইতিহাস, স্থানীয় ইতিহাস।

পরীক্ষার টিপস: ইতিহাসের নতুন ধারাগুলির নাম ও বৈশিষ্ট্য এবং লিখিত ও অলিখিত উপাদানের তুলনামূলক আলোচনা প্রায় প্রতিবছর প্রশ্ন হিসেবে আসে।


দ্বিতীয় অধ্যায় — সংস্কার : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

Reforms: Characteristics and Analysis | Madhyamik History Chapter 2 | মাধ্যমিক ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায়

উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনের সংস্পর্শে এসে বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে এক গভীর পরিবর্তনের ঢেউ এল। সমাজের কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও নারীর প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে একদল প্রগতিশীল মানুষ রুখে দাঁড়ালেন। এটিকেই বলা হয় উনিশ শতকের সংস্কার আন্দোলন বা নবজাগরণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: রাজা রামমোহন রায় ছিলেন এই সংস্কার আন্দোলনের পথিকৃৎ। তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করেন এবং ১৮২৯ সালে সতীদাহ আইন পাস করান। তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন একেশ্বরবাদী ধর্মসংস্কারের লক্ষ্যে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবাবিবাহ আইন (১৮৫৬) পাস করান এবং বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ডিরোজিও ও ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার ঘটায়। স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণ মিশন হিন্দু ধর্মের পুনর্জাগরণে ভূমিকা রাখে।

মূল থিম: রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, ব্রাহ্মসমাজ, সতীদাহ বিলোপ, বিধবাবিবাহ, ডিরোজিও, স্বামী বিবেকানন্দ।

পরীক্ষার টিপস: প্রতিটি সংস্কারকের অবদান আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে। সামাজিক সংস্কার ও ধর্মীয় সংস্কারের পার্থক্য এবং বিদ্যাসাগরের ভূমিকা পরীক্ষায় বারবার আসে।


তৃতীয় অধ্যায় — প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ : বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

Resistance and Revolt | Madhyamik History Chapter 3 | মাধ্যমিক ইতিহাস তৃতীয় অধ্যায়

ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল। কৃষক, উপজাতি সম্প্রদায় থেকে শুরু করে সিপাহি — সবাই একে একে বিদ্রোহের পথে হেঁটেছেন। এই অধ্যায়ে সেই প্রতিরোধের ইতিহাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ওয়াহাবি আন্দোলন (১৮২০-এর দশক) ছিল ব্রিটিশবিরোধী ধর্মীয় আন্দোলন — সৈয়দ আহমদ ব্রেলভি এর নেতা ছিলেন। ফরায়েজি আন্দোলন হাজি শরীয়তউল্লাহর নেতৃত্বে বাংলার কৃষকদের মধ্যে পরিচালিত হয়। নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬০) বাংলার নীলচাষিরা ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেন — দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটক এই বিদ্রোহের জ্বলন্ত দলিল। সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫-৫৬) সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সশস্ত্র বিদ্রোহ — মঙ্গল পাণ্ডে, নানাসাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই এতে অংশ নেন।

মূল থিম: ওয়াহাবি আন্দোলন, ফরায়েজি আন্দোলন, নীল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ, ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ।

পরীক্ষার টিপস: প্রতিটি বিদ্রোহের কারণ, নেতৃত্ব, ফলাফল ও গুরুত্ব আলাদাভাবে মনে রাখতে হবে। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের চরিত্র নির্ধারণ নিয়ে বিতর্কও পরীক্ষায় আসে।


চতুর্থ অধ্যায় — সংবদ্ধতার গোড়ার কথা : বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

Early Nationalism | Madhyamik History Chapter 4 | মাধ্যমিক ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায়

উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে ভারতীয়রা ধীরে ধীরে একটি জাতীয় পরিচয় গড়ে তুলতে শুরু করেন। বিভিন্ন সংগঠন, সভাসমিতি ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে এই সংবদ্ধতা বা জাতীয়তাবোধের বীজ বপন হয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক মাইলফলক। এর আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠেছিল — যেমন ভারত সভা (সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়)। সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল — হিন্দু প্যাট্রিয়ট, সোমপ্রকাশ, বঙ্গদর্শন, অমৃতবাজার পত্রিকা জনমত গঠনে সাহায্য করে। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিও জাতীয়তাবাদ গড়ার কাজে সাহায্য করেছিল — বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' ও 'বন্দেমাতরম' সংগীত জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে ওঠে। ইলবার্ট বিল বিতর্ক ও তার প্রতিক্রিয়া ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ করে।

মূল থিম: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারত সভা, সংবাদপত্রের ভূমিকা, বঙ্কিমচন্দ্র, বন্দেমাতরম, ইলবার্ট বিল।

পরীক্ষার টিপস: জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, সংবাদপত্রের ভূমিকা এবং বঙ্কিমচন্দ্রের অবদান পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।


পঞ্চম অধ্যায় — বিকল্প চিন্তা ও উদ্যোগ : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

Alternative Ideas and Initiatives | Madhyamik History Chapter 5 | মাধ্যমিক ইতিহাস পঞ্চম অধ্যায়

উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে বিংশ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতীয়রা ব্রিটিশ আধিপত্যের বিকল্প চিন্তা ও স্বদেশি উদ্যোগ গড়ে তুলেছিলেন। এই উদ্যোগগুলি স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্যোগ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন ব্রিটিশ শিক্ষা পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে প্রকৃতিমুখী শিক্ষার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে — জগদীশচন্দ্র বসু উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা আবিষ্কার করেন, প্রফুল্লচন্দ্র রায় বেঙ্গল কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেন। স্বদেশি শিল্প উদ্যোগে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা পাওয়া যায়। জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠন ও বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার প্রচেষ্টা এই অধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বিষয়। মুদ্রণ ও প্রকাশনার বিকাশও জাতীয় চেতনা বিস্তারে সাহায্য করে।

মূল থিম: শান্তিনিকেতন, জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, জাতীয় শিক্ষা পরিষদ, বেঙ্গল কেমিক্যাল, স্বদেশি শিল্প।

পরীক্ষার টিপস: বিকল্প শিক্ষার উদ্যোগ ও স্বদেশি বিজ্ঞানচর্চার বৈশিষ্ট্য এবং এই উদ্যোগগুলি কীভাবে জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করেছিল তা পরীক্ষায় আসে।


ষষ্ঠ অধ্যায় — বিংশ শতকে ভারতে কৃষক, শ্রমিক ও বামপন্থী আন্দোলন : বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা

Peasant, Labour and Leftist Movements | Madhyamik History Chapter 6 | মাধ্যমিক ইতিহাস ষষ্ঠ অধ্যায়

বিংশ শতকে ভারতের জাতীয় আন্দোলন শুধু উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণিও তাদের নিজস্ব দাবিদাওয়া নিয়ে সংগঠিত হয়েছিল। বামপন্থী আদর্শের প্রসারও এই সময়ে ঘটে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: কৃষক আন্দোলনের মধ্যে একা আন্দোলন (১৯২১, উত্তরপ্রদেশ) ও বারদোলি সত্যাগ্রহ (১৯২৮, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে) উল্লেখযোগ্য। তেভাগা আন্দোলন (১৯৪৬-৪৭) বাংলার ভাগচাষিরা পরিচালনা করেন — ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ ভাগ দাবি ছিল এর মূল বিষয়। শ্রমিক আন্দোলনে ভারতীয় জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (INTUC) ও এআইটিইউসি গঠন গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (১৯২০) প্রতিষ্ঠা ও তার ভূমিকা, মানবেন্দ্রনাথ রায়ের অবদান এবং বামপন্থী ভাবধারার বিস্তার এই অধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বিষয়।

মূল থিম: তেভাগা আন্দোলন, বারদোলি সত্যাগ্রহ, একা আন্দোলন, ট্রেড ইউনিয়ন, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি, বামপন্থী আন্দোলন।

পরীক্ষার টিপস: তেভাগা আন্দোলনের কারণ, নেতৃত্ব ও ফলাফল পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের পার্থক্য ও সাদৃশ্যও গুরুত্বপূর্ণ।


সপ্তম অধ্যায় — বিংশ শতকে ভারতে নারী, ছাত্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আন্দোলন : বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ

Women, Student and Marginal Groups Movement | Madhyamik History Chapter 7 | মাধ্যমিক ইতিহাস সপ্তম অধ্যায়

জাতীয় আন্দোলনে শুধু পুরুষ নন, নারীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ছাত্রসমাজ ও দলিত-আদিবাসীসহ প্রান্তিক মানুষেরাও নিজেদের অধিকারের জন্য লড়েছেন। এই অধ্যায় সেই উপেক্ষিত ইতিহাসকে তুলে ধরে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: নারী আন্দোলনে সরোজিনী নাইডু, বাসন্তী দেবী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্তের নাম উল্লেখযোগ্য। নারীরা অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বিপ্লবী নারী — ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে নারীদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ছাত্র আন্দোলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (AISF) ও বাংলার ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা আলোচিত হয়। দলিত আন্দোলনে ডক্টর বি. আর. আম্বেদকর অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে লড়াই করেন এবং দলিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করেন।

মূল থিম: নারী আন্দোলন, প্রীতিলতা-কল্পনা দত্ত, ছাত্র আন্দোলন, দলিত আন্দোলন, আম্বেদকর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

পরীক্ষার টিপস: নারী আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীদের অবদান এবং আম্বেদকরের দলিত আন্দোলনের তাৎপর্য পরীক্ষায় বারবার আসে।


অষ্টম অধ্যায় — উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত : বিংশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (১৯৪৭–১৯৬৪)

Post-Colonial India 1947–1964 | Madhyamik History Chapter 8 | মাধ্যমিক ইতিহাস অষ্টম অধ্যায়

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হলো। কিন্তু স্বাধীনতা এল দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে। এরপর ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত নেহরুর নেতৃত্বে নতুন ভারত গড়ার সংগ্রাম চলে। এই অধ্যায়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম যুগের ইতিহাস আলোচিত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ১৯৪৭ সালের দেশভাগ ছিল এক মর্মান্তিক ঘটনা — পাঞ্জাব ও বাংলা বিভক্ত হয়, লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হন এবং সাম্প্রদায়িক হিংসায় অগণিত মানুষ প্রাণ হারান। দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতে অন্তর্ভুক্তি (Integration) — হায়দরাবাদ ও জুনাগড়ের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান প্রণীত হয় — এটি বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান। নেহরুর পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, মিশ্র অর্থনীতির মডেল এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) ভারতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষ মর্যাদা দেয়। ১৯৬২ সালে চিন-ভারত যুদ্ধ ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়।

মূল থিম: দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা, দেশীয় রাজ্য অন্তর্ভুক্তি, ভারতীয় সংবিধান, নেহরু নীতি, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন।

পরীক্ষার টিপস: দেশভাগের কারণ ও প্রভাব, সংবিধান প্রণয়নের প্রেক্ষাপট এবং নেহরুর পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতি পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।