Madhyamik Geography All Chapters Mock Test

মাধ্যমিক ভূগোল সম্পূর্ণ গাইড | Class 10 Geography WBBSE

শ্রেণী: দশম শ্রেণী | বিষয়: ভূগোল | পরীক্ষা: মাধ্যমিক (WBBSE)

দশম শ্রেণীর ভূগোল বিষয়টি প্রাকৃতিক ভূগোল, পরিবেশ ভূগোল এবং ভারতের আঞ্চলিক ভূগোলের সমন্বয়ে গঠিত। ভূমিরূপ গঠন থেকে শুরু করে বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভারতের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিভাগ এবং মানচিত্র পাঠ — সব কিছু মিলিয়ে এই বিষয়টি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্লগ পোস্টে WBBSE Madhyamik Geography-এর সমস্ত অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি একসাথে পাওয়া যাবে।


প্রথম অধ্যায় — বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ

Exogenous Processes and Landforms | Madhyamik Geography Chapter 1 | মাধ্যমিক ভূগোল প্রথম অধ্যায়

বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ MCQ Mock Test 

পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ সবসময় পরিবর্তিত হচ্ছে। ভূপৃষ্ঠের বাইরে থেকে কাজ করা শক্তিগুলিকে বহির্জাত শক্তি বলে। সূর্যের তাপ, বায়ু, জল এবং হিমবাহ — এই বহির্জাত শক্তিগুলি ভূমিকে ক্রমাগত ক্ষয় করে, পরিবহন করে এবং নতুন ভূমিরূপ গড়ে তোলে। বহির্জাত প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ রয়েছে — আবহবিকার (Weathering), ক্ষয়ীভবন (Erosion) এবং অবক্ষেপণ (Deposition)।

নদীর কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: নদী হলো সবচেয়ে শক্তিশালী বহির্জাত প্রক্রিয়াগুলির একটি। নদী তার উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ গড়ে তোলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: নদীর কাজ তিন প্রকার — ক্ষয়, বহন এবং সঞ্চয়। নদীর উচ্চগতিতে অর্থাৎ পার্বত্য পর্যায়ে ক্ষয়কার্য প্রবল। এখানে তৈরি হয় V-আকৃতির উপত্যকা, গিরিখাত (Gorge), ক্যানিয়ন, জলপ্রপাত এবং র‍্যাপিড। মধ্যগতিতে ক্ষয় ও সঞ্চয় একসাথে চলে — গঠিত হয় পলল পাখা (Alluvial Fan), মিয়েন্ডার বা নদীবাঁক এবং অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow Lake)। নিম্নগতিতে সঞ্চয়কাজ প্রধান — গড়ে ওঠে বদ্বীপ (Delta), প্লাবনভূমি (Flood Plain) এবং স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee)।

মূল থিম: নদীর উচ্চ-মধ্য-নিম্নগতি, V-উপত্যকা, গিরিখাত, মিয়েন্ডার, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, বদ্বীপ।

হিমবাহের কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: পর্বতের উচ্চভাগে বরফ জমে তৈরি হয় হিমবাহ। এই বিশালাকার বরফের স্তূপ ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে আসে এবং পথে শিলা ক্ষয় করে নানা বিশেষ ভূমিরূপ তৈরি করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: হিমবাহের ক্ষয়কার্যে তৈরি হয় U-আকৃতির উপত্যকা, সার্ক বা করি (Cirque), অ্যারেট (Arete) এবং পিরামিড চূড়া বা হর্ন (Horn)। হিমবাহের সঞ্চয়কার্যে তৈরি হয় মোরেন (Moraine), ড্রামলিন (Drumlin) এবং কেটল হ্রদ (Kettle Lake)। নদী ও হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট উপত্যকার পার্থক্য পরীক্ষায় প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হয় — নদীর উপত্যকা V-আকৃতির আর হিমবাহের উপত্যকা U-আকৃতির।

মূল থিম: হিমবাহ ক্ষয় ও সঞ্চয়, U-উপত্যকা, সার্ক, হর্ন, মোরেন, ড্রামলিন।

বায়ুর কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: মরু অঞ্চলে জলের অভাবে বায়ু হলো প্রধান ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তি। বায়ু ক্ষয়, পরিবহন ও সঞ্চয় — তিনটি কাজেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপ তৈরি করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: বায়ুর ক্ষয়কার্যে তৈরি হয় ইনসেলবার্গ, গৌর বা মাশরুম শিলা (Mushroom Rock), জিউগেন এবং ইয়ার্দাং। বায়ুর সঞ্চয়কার্যে তৈরি হয় বালিয়াড়ি বা বার্খান (Barchan Dune) এবং লোয়েস সমভূমি। বায়ুর তিনটি ক্ষয় পদ্ধতি হলো অবঘর্ষ (Abrasion), ঘর্ষণ (Attrition) এবং অপবাহন (Deflation)।

মূল থিম: বায়ুর ক্ষয় ও সঞ্চয়, মাশরুম শিলা, বার্খান, ইনসেলবার্গ, লোয়েস।


দ্বিতীয় অধ্যায় — বায়ুমণ্ডল

Atmosphere | Madhyamik Geography Chapter 2 | মাধ্যমিক ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায়

বায়ুমণ্ডল MCQ Mock Test 

পৃথিবীকে ঘিরে থাকা গ্যাসীয় আবরণই হলো বায়ুমণ্ডল। এটি পৃথিবীর জীবন রক্ষার প্রধান ঢাল। এই অধ্যায়ে বায়ুমণ্ডলের গঠন, তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ এবং আর্দ্রতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও স্তরবিন্যাস

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বায়ুমণ্ডল নানা গ্যাস ও কণার সমন্বয়ে গঠিত এবং এটি বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। প্রতিটি স্তরের আলাদা বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন (৭৮%), অক্সিজেন (২১%) এবং অন্যান্য গ্যাস (১%) থাকে। স্তরবিন্যাসে ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে কাছে রয়েছে ট্রপোস্ফিয়ার — আবহাওয়ার সব ঘটনা এখানেই ঘটে। তার উপরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে রয়েছে ওজোন স্তর যা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। এরপর ক্রমশ মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার এবং সবার উপরে এক্সোস্ফিয়ার। প্রতিটি স্তরে তাপমাত্রার পরিবর্তনের ধরনও পরীক্ষায় আসে।

মূল থিম: বায়ুমণ্ডলের উপাদান, ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, ওজোন স্তর, বিভিন্ন স্তরের বৈশিষ্ট্য।


বায়ুমণ্ডলের তাপ, উষ্ণতা ও বিশ্ব উষ্ণায়ন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: সূর্য থেকে পৃথিবী কীভাবে তাপ পায়, সেই তাপ কোথায় কেমন থাকে এবং বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এই অংশে আলোচনা করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: সূর্যের তাপ পৃথিবীতে আসে বিকিরণ পদ্ধতিতে। ভূপৃষ্ঠ সেই তাপ শোষণ করে এবং দীর্ঘতরঙ্গ বিকিরণ হিসেবে বায়ুমণ্ডলে ছাড়ে — এই প্রক্রিয়াই গ্রিনহাউস প্রভাব। অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব ও বায়ুপ্রবাহ উষ্ণতাকে প্রভাবিত করে। CO₂, মিথেন ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে — যার ফলে হিমবাহ গলছে, সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে এবং আবহাওয়া চরম রূপ নিচ্ছে।

মূল থিম: গ্রিনহাউস প্রভাব, বিশ্ব উষ্ণায়ন, উষ্ণতার প্রভাবকারী উপাদান, সমুদ্রজলস্তর বৃদ্ধি।

বায়ুর চাপবলয় ও বায়ুপ্রবাহ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুচাপের তারতম্য থেকে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এই নিয়মিত বায়ুপ্রবাহই পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: পৃথিবীতে সাতটি চাপবলয় রয়েছে — নিরক্ষীয় নিম্নচাপ, দুটি উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ, দুটি উপমেরু নিম্নচাপ এবং দুটি মেরু উচ্চচাপ। এই চাপবলয়গুলি থেকে তৈরি হয় আয়নবায়ু (Trade Wind), পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) এবং মেরু বায়ু। মৌসুমি বায়ু (Monsoon) ভারতের আবহাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসে এবং প্রচুর বৃষ্টি আনে।

মূল থিম: বায়ুচাপ বলয়, আয়নবায়ু, পশ্চিমা বায়ু, মৌসুমি বায়ু, কোরিওলিস বল।

আর্দ্রতা ও অধঃক্ষেপণ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থেকে মেঘ গঠন এবং সেখান থেকে বিভিন্ন রূপে বৃষ্টিপাত — এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এই অংশে আলোচিত।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার পার্থক্য জানতে হবে। বায়ু ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ তৈরি হয় এবং অবশেষে বৃষ্টিপাত ঘটে। বৃষ্টিপাত তিন প্রকার — পরিচলন বৃষ্টি (নিরক্ষীয় অঞ্চলে), শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (পর্বতের বায়ুমুখী ঢালে) এবং ঘূর্ণবাত বৃষ্টি। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টির কারণে পর্বতের বায়ুমুখী ঢালে বৃষ্টি বেশি এবং বিমুখী ঢাল শুষ্ক থাকে — একেই বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলে।

মূল থিম: আর্দ্রতা, ঘনীভবন, পরিচলন-শৈলোৎক্ষেপ-ঘূর্ণবাত বৃষ্টি, বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।


তৃতীয় অধ্যায় — বারিমণ্ডল

Hydrosphere | Madhyamik Geography Chapter 3 | মাধ্যমিক ভূগোল তৃতীয় অধ্যায়

বারিমণ্ডল MCQ Mock Test 

পৃথিবীর জলীয় অংশ অর্থাৎ সমুদ্র, নদী, হ্রদ ও বরফ মিলিয়ে গঠিত বারিমণ্ডল। এই অধ্যায়ে সমুদ্রের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা — সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

সমুদ্রস্রোত

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: সমুদ্রের জলরাশি নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিত প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে। এই স্রোত পৃথিবীর জলবায়ুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: সমুদ্রস্রোত তৈরির কারণ হলো বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন (কোরিওলিস বল), তাপমাত্রার তারতম্য এবং লবণাক্ততার পার্থক্য। উষ্ণস্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে এবং শীতলস্রোত মেরু থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। গালফ স্ট্রিম (উষ্ণ) পশ্চিম ইউরোপের জলবায়ু উষ্ণ রাখে। ল্যাব্রাডর স্রোত (শীতল) ও গালফ স্ট্রিমের মিলনস্থলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। ভারত মহাসাগরে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্রোতের দিক ঋতু অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

মূল থিম: সমুদ্রস্রোতের কারণ, উষ্ণ ও শীতলস্রোত, গালফ স্ট্রিম, ল্যাব্রাডর স্রোত, জলবায়ুর উপর প্রভাব।

পরীক্ষার টিপস: বিশ্বের প্রধান সমুদ্রস্রোতের নাম ও প্রকৃতি মানচিত্রে চিহ্নিত করার অনুশীলন করতে হবে।

Keywords: সমুদ্রস্রোত Class 10, গালফ স্ট্রিম মাধ্যমিক ভূগোল, Ocean Currents WBBSE Bengali

জোয়ার-ভাটা

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: সমুদ্রের জলরাশি নিয়মিত উপরে ওঠা ও নামার ঘটনাকে জোয়ার-ভাটা বলে। চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ বলই এর মূল কারণ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর চাঁদমুখী দিকে এবং বিপরীত দিকে একসাথে জোয়ার হয়। পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চাঁদ-পৃথিবী-সূর্য একই রেখায় থাকায় সর্বোচ্চ জোয়ার বা ভরা কোটাল (Spring Tide) হয়। অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পরস্পরের সাথে সমকোণে থাকায় মরা কোটাল (Neap Tide) হয়। জোয়ার-ভাটার ব্যবহারিক গুরুত্ব হলো জাহাজ চলাচল, মৎস্যশিকার এবং জোয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

মূল থিম: জোয়ার-ভাটার কারণ, ভরা কোটাল, মরা কোটাল, চাঁদ ও সূর্যের ভূমিকা, ব্যবহারিক গুরুত্ব।


চতুর্থ অধ্যায় — পরিবেশ ভূগোল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

Environmental Geography and Waste Management | Madhyamik Geography Chapter 4 | মাধ্যমিক ভূগোল চতুর্থ অধ্যায়

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আধুনিক সভ্যতার বিকাশে পরিবেশ ক্রমশ দূষিত হচ্ছে এবং বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। এই অধ্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: বর্জ্য প্রধানত চার ধরনের — কঠিন বর্জ্য, তরল বর্জ্য, গ্যাসীয় বর্জ্য এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। বর্জ্যকে আবার জৈব বিভাজ্য ও অজৈব বিভাজ্যে ভাগ করা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ৩R — Reduce (হ্রাস করো), Reuse (পুনরায় ব্যবহার করো) এবং Recycle (পুনর্ব্যবহারযোগ্য করো)। পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ই-বর্জ্যের বিপদ এবং কম্পোস্টিং পদ্ধতিও পরীক্ষায় নিয়মিত আসে।

মূল থিম: বর্জ্যের প্রকারভেদ, ৩R পদ্ধতি, পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ই-বর্জ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ।


পঞ্চম অধ্যায় — ভারত

India | Madhyamik Geography Chapter 5 | মাধ্যমিক ভূগোল পঞ্চম অধ্যায়

মাধ্যমিক ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় MCQ Mock Test 

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় দেশ। এই অধ্যায়ে ভারতের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিভাগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ভারতের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে দাক্ষিণাত্য মালভূমি পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ভারতকে প্রধানত পাঁচটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা যায়। হিমালয় পর্বতমালা ভারতের উত্তর সীমায় অবস্থিত — বৃষ্টিপাত এনে দেয় ও উত্তরের শীতল বায়ু ঠেকায়। উত্তরের মহাসমভূমি সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পলি দিয়ে তৈরি এবং ভারতের সবচেয়ে উর্বর কৃষিজমি। দাক্ষিণাত্য মালভূমি প্রাচীন গোন্ডোয়ানাভূমির অংশ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা উপকূলীয় সমভূমি গঠনে ভূমিকা রাখে। থর মরুভূমি উত্তর-পশ্চিমে রাজস্থানে অবস্থিত।

মূল থিম: হিমালয়, উত্তরের সমভূমি, দাক্ষিণাত্য মালভূমি, পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট, থর মরুভূমি।

ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: ভারতের অর্থনীতি কৃষি, শিল্প ও পরিষেবা — এই তিনটি মূল খাতের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যকলাপ প্রাধান্য পায়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: ভারতের প্রধান কৃষিপণ্যের মধ্যে ধান, গম, পাট, চা, আখ ও তুলা উল্লেখযোগ্য — প্রতিটির উৎপাদন অঞ্চল মানচিত্রসহ জানতে হবে। শিল্পের মধ্যে লোহা ও ইস্পাত শিল্প (ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়), বস্ত্রশিল্প (মুম্বাই, আহমেদাবাদ), পাটশিল্প (পশ্চিমবঙ্গ) এবং তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প (বেঙ্গালুরু) গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের খনিজ সম্পদ বিতরণ — কয়লা, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও পেট্রোলিয়াম কোথায় পাওয়া যায় তা মানচিত্রসহ জানতে হবে।

মূল থিম: ভারতের কৃষি, শিল্প, খনিজ সম্পদ, পরিবহন ব্যবস্থা, আঞ্চলিক অর্থনীতি।

পরীক্ষার টিপস: ভারতের মানচিত্রে কৃষি, শিল্প ও খনিজ সম্পদের অবস্থান চিহ্নিত করার অনুশীলন অবশ্যই করতে হবে।


ষষ্ঠ অধ্যায় — উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র

Satellite Image and Topographical Map | Madhyamik Geography Chapter 6 | মাধ্যমিক ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায়

উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র MCQ Mock Test 

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আধুনিক ভূগোল চর্চায় উপগ্রহ চিত্র ও টোপোগ্রাফিক মানচিত্রের ব্যবহার অপরিহার্য। এই অধ্যায়ে মানচিত্র পড়া ও বিশ্লেষণ করার দক্ষতা গড়ে তোলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ: উপগ্রহ থেকে তোলা চিত্র দুই ধরনের — দৃশ্যমান আলোকচিত্র (Visible Image) এবং অবলোহিত চিত্র (Infrared Image)। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ভূমির ব্যবহার, বনাঞ্চলের বিস্তার, জলাশয়ের অবস্থান এবং শস্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে কনট্যুর রেখা দিয়ে ভূমির উচ্চতা প্রকাশ করা হয়। ভারতের Survey of India প্রকাশিত টোপোশিটে স্কেল, কনট্যুর ব্যবধান এবং বিভিন্ন প্রতীক চিহ্ন চেনা ও বোঝা পরীক্ষার জন্য জরুরি। ভারতের মানচিত্রে রাজ্য, নদী, পর্বত ও শহরের অবস্থান সঠিকভাবে চিহ্নিত করার অনুশীলনও এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মূল থিম: উপগ্রহ চিত্রের প্রকার ও ব্যবহার, কনট্যুর রেখা, টোপোগ্রাফিক মানচিত্র পাঠ, মানচিত্রের স্কেল ও প্রতীক, ভারতের মানচিত্র।

পরীক্ষার টিপস: ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করার অনুশীলন এবং ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র থেকে ভূমির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করার দক্ষতা মাধ্যমিক পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।